HomeEducation'সোনার তরী' কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

‘সোনার তরী’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

- Advertisement -spot_img

     ‘সোনার তরী’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

‘সোনার তরী’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:
১। ‘চারিদিকে বাঁকা জল করিছে খেলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : ‘সোনার তরী’ কবিতায় ‘চারিদিকে বাঁকা জল’ চরণাংশে আপাতদৃষ্টিতে বর্ষার দুর্যোগময় পরিবেশের অন্তরালে অনন্ত কালস্রোতকে বোঝানো হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, চারপাশের প্রবল স্রোতের মধ্যে জেগে থাকা দ্বীপের মতো ছোটো একটি ধানক্ষেতে সোনার ধান নিয়ে অপেক্ষারত নিঃসঙ্গ কৃষক। আকাশের ঘন মেঘ আর ভারী বর্ষণে পাশের নদীটি হয়ে উঠেছে হিংস্র। চারপাশে ঘূর্ণায়মান বাঁকা জল কৃষকের মনে সৃষ্টি করেছে ঘনঘোর আশঙ্কা। কবিতাটিতে আপাত চিত্রের অন্তরালে বর্ণিত দার্শনিক প্রতীক হিসেবে কৃষক ব্যক্তিমানুষ, ছোটক্ষেত কবির সাধনার ক্ষেত্র এবং স্রোতস্বিনী নদীকে মহাকালরূপে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে, ‘চারিদিকে বাঁকা জল’ কবিতাংশের মাধ্যমে মূলত জীবনের পারিপার্শ্বিক দুর্যোগ ও প্রতিকূলতাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ‘বাঁকা জল’ এখানে অনন্ত কালস্রোতের প্রতীক যা যেকোনো সময় সবকিছুকে বিলীন করে দিতে পারে।

২। ‘সোনার তরী’ কবিতায় “সোনার ধান” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘সোনার তরী’ কবিতায় “সোনার ধান” বলতে কবি তার সমস্ত জীবনের সৃষ্টিকর্মকে বুঝিয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সোনার তরী’ কবিতাটি একটি প্রতীকী তাৎপর্যপূর্ণ কবিতা। কবিতাটিতে রূপকের অন্তরালে কবি গভীর এক জীবনদর্শন ফুটিয়ে তুলেছেন। আলোচ্য কবিতায় ধান হচ্ছে কৃষকের লাগানো কষ্টার্জিত ফসল যা মানুষের সৃষ্টিকর্মের প্রতীক। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে পরম স্নেহ ও মমতা দিয়ে কৃষক তার খেতে ধান উৎপন্ন করেন। মানুষও অনেক কষ্ট করে নিজের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে তার সৃজনশীল কর্ম সৃষ্টি করে। ধানের সঙ্গে কবি নিজের জীবনের সৃষ্টিকর্মকে তুলনা করেছেন। তাই যায়, “সোনার ধান” বলতে কবি সৃষ্টিকর্মকে বুঝিয়েছেন।



৩। ‘যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী’_ পঙক্তিটি ব্যাখ্যা কর?
উত্তর : আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে কবি মহাকাল মানুষের কর্মকে ধারণ করলেও ব্যক্তি-মানুষকে ধারণ করে না।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি এক গভীর জীবনদর্শন ব্যক্ত করেছেন। এ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে একটি দ্বীপ সদৃশ ধানখেতে একজন কৃষক তার কষ্টার্জিত ধান নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সময় ধানসহ কৃষক বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় প্রহর গুনছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মাঝিকে দেখে কৃষক তার ধানগুলো মাঝির তরীতে তুলে নিতে আহ্বান জানায়। উক্ত সোনার তরীতে কৃষকের ধানগুলো ঠাঁই পেলেও কৃষকের ঠাঁই হয় না। আলোচ্য কবিতায় সোনার তরী মূলত মহাকাল বা প্রবহমান সময় আর সোনার ধান মূলত সৃষ্টিকর্ম। ফলে আমরা বুঝতে পারি, ব্যক্তির মহৎ কর্মকে মহাকাল গ্রহণ করলেও অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে ব্যক্তি জীবন-নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকে।

৪। ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী’_ পঙ্ক্তিটিতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : মহাকালরূপী সোনার তরীতে মানুষের সৃষ্টিকর্মের স্থান হলেও মানুষের অর্থাৎ স্রষ্টার স্থান হয় না, সেখানে আলোচ্য পঙ্ক্তিটিতে একথাটি বোঝানো হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় রূপকের অন্তরালে মানবজীবনের এক গভীর সত্য প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে একটি দ্বীপ সদৃশ ধানখেতে একজন কৃষক তার কষ্টার্জিত ধান নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সময় ধানসহ কৃষক বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় প্রহর গুনছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মাঝিকে দেখে কৃষক তার ধানগুলো মাঝির তরীতে তুলে নিতে আহ্বান জানায়। উক্ত সোনার তরীতে কৃষকের ধানগুলো ঠাঁই পেলেও কৃষকের ঠাঁই হয় না। আলোচ্য কবিতায় সোনার তরী মূলত মহাকাল বা প্রবহমান সময় আর সোনার ধান মূলত সৃষ্টিকর্ম। ফলে আমরা বুঝতে পারি, মহাকালের অনন্ত প্রবাহে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষের সব সৃষ্টিকর্ম মহাকালের প্রতীক সোনার তরীতে ঠাঁই পেলেও ব্যক্তিমানুষ সেখানে হয় উপেক্ষিত। তাই কৃষকরূপী কবি যখন তার সোনার ধানরূপী সৃষ্টিকর্মের সাথে মহাকালরূপী সোনার তরীতে ঠাঁই চান তখন তার ঠাঁই হয় না।

৫। “যাহা লয়ে ছিনু ভুলে” বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আলোচ্য পঙক্তিটির মাধ্যমে কবির সৃষ্টিকর্ম নিয়ে জীবনভর মগ্ন থাকার দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় কবি এক গভীর জীবনদর্শন ব্যক্ত করেছেন। এ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে একটি দ্বীপ সদৃশ ধানখেতে একজন কৃষক তার কষ্টার্জিত ধান নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সময় ধানসহ কৃষক বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় প্রহর গুনছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মাঝিকে দেখে কৃষক তার ধানগুলো মাঝির তরীতে তুলে নিতে আহ্বান জানায়। উক্ত সোনার তরীতে কৃষকের ধানগুলো ঠাঁই পেলেও কৃষকের ঠাঁই হয় না। মূলত, কবির সৃষ্টিকর্মই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান সবকিছু সৃষ্টিশীল কবির দৃষ্টিতে শিল্পসাধনাতেই তিনি তাঁর সমগ্র জীবন অতিবাহিত করেছেন। শিল্পতে মগ্ন থাকার কারণে আর কিছু নিয়ে ভাবার তেমন সময় পাননি। শেষবেলায় মহাকালরূপী সোনার তরীতে সেসব সৃষ্টিকর্মের স্থান হলেও তিনি নিজে সেখানে স্থান পাননি। সংগত কারণেই সারাজীবন সৃষ্টিকর্ম নিয়ে মগ্ন থাকার কথা তিনি আক্ষেপভরে প্রকাশ করেছেন।




৬। কবিতাটিতে ‘পরপার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : সোনার তরী’ একটি রূপক কবিতা। এ কবিতায় আমরা দেখতে পাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় একজন কৃষক তার সোনার ধান নিয়ে দ্বীপসদৃশ একটি ধানক্ষেতে অপেক্ষা করছে। মূলত, এ কবিতার কৃষক হলেন শিল্পস্রষ্টা কবি নিজেই। ধানক্ষেতটি হচ্ছে মানুষের জীবন পরিধি, নদীর জল কালসলিলের প্রতীক আর নদীর অপর পাড় তথা পরপার হলো মৃত্যু পরবর্তী জগৎ। এভাবে ‘পরপার’ শব্দটির মধ্য দিয়ে কবিতাটিতে পরকালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৭। শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : উক্তিটি দ্বারা নিঃসঙ্গ অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে আসন্ন ও অনিবার্য মৃত্যুর প্রতীক্ষার ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘সোনার তরী’ কবিতায় রূপকের অন্তরালে মানবজীবনের এক গভীর সত্য প্রকাশিত হয়েছে। এ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে একটি দ্বীপ সদৃশ ধানখেতে একজন কৃষক তার কষ্টার্জিত ধান নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সময় ধানসহ কৃষক বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় প্রহর গুনছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মাঝিকে দেখে কৃষক তার ধানগুলো মাঝির তরীতে তুলে নিতে আহ্বান জানায়। উক্ত সোনার তরীতে কৃষকের ধানগুলো ঠাঁই পেলেও কৃষকের ঠাঁই হয় না। আলোচ্য কবিতায় সোনার তরী মূলত মহাকাল বা প্রবহমান সময় আর সোনার ধান মূলত সৃষ্টিকর্ম। অর্থাৎ এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষের সব সৃষ্টিকর্ম মহাকালের প্রতীক সোনার তরীতে ঠাঁই পেলেও ব্যক্তিসত্তা ও তার শারীরিক অস্তিত্বকে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার। শূন্য নদীর তীরে আশাহত শিল্পস্রষ্টা নিঃসঙ্গ অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে আসন্ন ও অনিবার্য মৃত্যুর প্রতীক্ষায় থাকে।

৮।’আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি’— এ উক্তির তাৎপর্য ব্যখ্যা কর।
[ ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দেখ ]



আরও দেখুন> ‘সোনার তরী’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
[unlock_link url=”/your-post-url”]এই কনটেন্ট পড়ুন[/unlock_link]

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

Stay Connected

16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe

Must Read

- Advertisement -spot_img

Related News

- Advertisement -spot_img