HomeEducation'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

- Advertisement -spot_img

‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ

১. কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ‘কপিলদাস বুড়োর কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়’ব্যাখ্যা করো

উত্তর: বয়োবৃদ্ধ কপিলদাসের কাছে জীবনের চলার পথ স্পষ্ট বলেই সবকিছু একটার সাথে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়।

বয়োবৃদ্ধ অভিজ্ঞ কপিলদাসের কাছে জীবনের চলার পথ স্পষ্ট বলেই সবকিছু একটার সাথে আরেকটা মেলানো মনে হয়। কপিলদাস বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া একজন বৃদ্ধ। তিনি জীবনের অনেকটা সময় পার করে এসেছেন। তাই চারপাশের প্রকৃতির কোনো ঘটনাতেই তিনি বিচলিত হন না। রাগ, ক্ষোভ, ঝগড়া-ঝাঁটি, জীবন-মৃত্যু সবকিছুই যেন তাঁর কাছে একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে হয়। এটাই যেন প্রকৃতির নিয়ম। এমনটাই যেন হওয়ার কথা। তাঁর মতে, সংসারে একটি শান্ত ধীর এবং নিরবচ্ছিন্ন স্রোত আছে। সেই স্রোতে সবকিছুই যেন একটি অপরটির সঙ্গী।

২. ‘কিন্তু পানির স্রোত তেমনি ধীর, তেমনি শান্ত।’বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘কিন্তু পানির স্রোত তেমনি ধীর, তেমনি শান্ত।’—উক্তিটি দ্বারা টাঙন নদীর শান্ত ও ধীর গতির বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে।

শীতের আগমনে টাঙন নদীর পানি অনেক নিচে নেমে যায়। বালি কেটে ধীর স্রোতে বয়ে চলে টাঙন। নদীর স্রোত এতটাই শান্ত ও ধীর গতির হয়ে থাকে যে, সাঁকোর উপর দিয়ে ট্রাক্টর যাতায়াত করলেও পানির স্রোত কাঁপে না। সাধারণত শীত ঋতুর আগমনের ফলে নদী এইরকম শান্ত থাকার কথা কিন্তু শীত ছাড়াও টাঙনের এই শান্ত ভাবটা এখন সারা বছরই থাকে।

৩. কপিলদাস অনেকক্ষণ ধরে লোকটার নড়াচড়ার ভঙ্গিটা লক্ষ করে কেন?

উত্তর: কপিলদাস বস্তির দিকে হাত তুলে দেখানো লোকটাকে চেনার চেষ্টা করে অনেকক্ষণ ধরে তার নড়াচড়ার ভঙ্গিটা লক্ষ করেন।

কপিলদাস দেখেন, কয়েকজন লোক টাঙ্গনের উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে বস্তির দিকে হাত তুলে কী যেন দেখাচ্ছে। পরিষ্কার জামা কাপড় পরা লোকটাকে তিনি চিনতে চেষ্টা করেন। একসময় তিনি চিনতে পারে ওই লোকটি ম্যানেজার মহাজন। কপিলদাসের মনে পরে কয়েকদিন আগেও এখানে বস্তির দিকে হাত তুলে কি যেন বলাবলি করছিল তারা। তিনি ভাবেন, এই সময় ওদের এখানে কি কাজ থাকতে পারে। একবার ভাবেন জমি জরিপ করতে এসেছে বোধ হয় এমন খবর তো তার কানে আসেনি।

৪. ‘তার তৃতীয় তিরটা সঠিক নিশানায় ছুড়বার জন্যে তৈরি হতে থাকে।’উক্তিটি ব্যাখ্যা করো

উত্তর: তাঁর তৃতীয় তিরটা সঠিক নিশানায় ছুড়বার জন্য তৈরি হতে থাকে—কথাটির মধ্য দিয়ে ভূমির অধিকার অর্জনের জন্য কপিলদাস মুর্মুর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ও প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে।

ভূমির অধিকার আদায়ে সাঁওতালরা সবসময়ই লড়াই সংগ্রাম করে চলে। কপিলদাস মুর্মু একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। তাঁর বয়স হয়েছে কিন্তু তিনি বয়সকে অতিক্রম করে তির-ধনুক হাতে তুলে নেন। শত্রুকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন তির। কপিলদাস মুহূর্তে হয়ে ওঠেন জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার এক আপসহীন যোদ্ধা। তিনি চান উম্মলিত প্রায় মানুষগুলোও তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে। তার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার এই প্রত্যয় ও প্রত্যাশা ব্যস্ত হয় প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে।

৫. ‘কপিলদাস বুড়ো এবার সত্যিই দমে যায়’ব্যাখ্যা করো

উত্তর: আলোচ্য উক্তিটিতে নিজ ছেলে মহিন্দের কাছ থেকে অবজ্ঞার শিকার হয়ে কপিলদাসের মর্মাহত হওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

সাঁওতালদের ভূমি মহাজনের হাত থেকে রক্ষার জন্য শলাপরামর্শ চলছিল। এসময় ছেলে মহিন্দরের কাছে একজনকে আসতে দেখে কপিলদাস আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে যায়। কিন্তু কপিলদাসকে দেখে তাঁর ছেলে মহিন্দর বিরক্ত হয় এবং বুড়া আখ্যা দিয়ে স্থান ত্যাগ করতে বলে। নিজের জন্ম দেওয়া ছেলে এভাবে অপমান করে কথা বলাতে কপিলদাস খুব মর্মাহত হন। এরপর সামনে আগানোর চিন্তা বাদ দিয়ে একেবারে শান্ত হয়ে দমে যান।

৬. ‘নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাবে বলে ইতস্তত করে’ব্যাখ্যা করো

উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি কপিলদাসের শেয়াল দেখে ভয় পাওয়ার বিষয়টি নাতিদের কাছে লুকানোর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
প্রবীণ কপিলদাস তাঁর নাতিদের কাছে যৌবনকালে বাঘ শিকারের গল্প করছিলেন। প্রাণনগরের জঙ্গলে শিকারে গিয়ে একটি বাঘকে তিরবিন্ধ হারহিলেন। ঠিক সেই সময় একটি শেয়াল পাশের ঝোঁপে থেকে বেরিয়ে লাফ দিলে কপিলদাস ভয়ে পালিয়ে যান। কিন্তু শেয়াল দেখে বলিয়েছিলেন সেটি নাতিদের কাছে বললে তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ পাবে ভেবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। মূলত, কপিলদাস সবার কাছ থেকে অবহেলার শিকার হওয়ায় নিজের মধ্যে সংকীর্ণতাবোধ তৈরি হয়। ফলে নাতিদের কাছে ভীরুতার কথা প্রকাশ করতে চাননি।

৭. কপিলদাস ইতস্তত করেন কেন?

উত্তর: নিজের দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাবে বলে কপিলদাস ইতস্তত করেন।

কপিলদাস মুর্মুর তাঁর নাতিদের কাছে নিজের বাঘ স্বীকার করা গল্প বলেন। তা-ও আবার বাঘ শিকারের মত ভয়ানক গল্প। স্বভাবতই তাঁর কিশোর নাতিদের এরকম ভয়ানক শিকারের গল্প শুনে বিস্ময়ের সীমা ছিল না। গভীর আগ্রহ সহকারী শুনছিল। ঝোপ থেকে একটা জানোয়ার লাফ দিয়ে ছুটে যাওয়ার কথা আসতেই তিনি হঠাৎ থেমে যান। কেননা সেটি ছিল শেয়াল। এ কথা মুখে আনার আগে তিনি ইতস্তত বোধ করেন। কারণ শিয়াল দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন- একথা বললে নাতিদের কাছে তার দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাবে।

৮. কপিলদাস কাউকে একটা কথাও জিজ্ঞেস করবে না কেন?

উত্তর: কপিলদাস শান্ত, ধীর এবং জীবনের প্রতি আকর্ষণহীনতার কারণে কাউকে একটি কথাও জিজ্ঞেস করবে না।
কপিলদাস বয়সের কারণে ঝিমিয়ে পড়েছেন। তাই তিনি নদীর ধারে রোদের দিকে পিঠ দিয়ে আনমনে বসে থাকেন। চারপাশের কোনো ঘটনাই তাকে ভাবায় না। ছাগল সবজিখেত খেল, নাকি কেউ ঝগড়া করল আবার খরগোশকে কুকুর তাড়া করল কিনা এসবকিছুই কপিলদাসের কাছে অর্থহীন মনে হয়। তাই বাচ্চারা যদি চিৎকারও করে তাতেও সে নড়বে না, কান পাতবে না এবং কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করবে না।

৯. ‘মাথাটা ডাইনে-বাঁয়ে অল্প-স্বল্প দুলছে, আর সে বসে রয়েছে তো বসেই রয়েছে।’উক্তিটি ব্যাখ্যা করো

উত্তর: মাথাটা ডাইনে-বাঁয়ে অল্প-স্বল্প দুলছে, আর সে বসে রয়েছে তো বসেই রয়েছে- উক্তিটি কপিলদাস সম্পর্কে করা হয়েছে।

কপিলদাস’ একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। সে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রধান। কিন্তু বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, অন্য সবার কাছে নিতান্তই প্রয়োজনীয় মানুষ। সে শীতের শান্ত নদী টাঙনের পাশে রোদে বসে আরামে ঝিমোয়। চারপাশের কোনো শব্দ তার কানে ঢোকে না। চিনি কলের ট্রাক্টর, বিনোদ-মিস্ত্রির ফার্মের ভিতর চলা ট্রাক্টর, রাখালের বাঁশি বাজানোর শব্দ কোনো কিছুই যেন তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে না। এত শব্দের পরও কপিলদাস চুপচাপ। বয়সের কারণে তার মাথাটা ডানে-বাঁয়ে দুলতে থাকে। তার কাছে মনে হয়, সব যেন স্বাভাবিক।

১০. ‘ঝগড়া বলো, ঝাঁটি বলো, জন্ম বলো, মরণ বলো সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো।’কথাটির মর্মার্থ বুঝিয়ে লেখো

উত্তর: প্রাত্যাহিক জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি জিনিস যেন একই সূত্রে গাঁথা- একথা বোঝাতেই আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।

কপিলদাস বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, প্রাণচঞ্চলহীন, নির্জীব, বৃদ্ধ একজন মানুষ। চারপাশের কোনো ঘটনাই তাকে ভাবায় না। সে নদীর ধারে বসে থাকে অথচ পাশেই যদি সবজি খেত তছনছ করে ছাগল, বিন্দা মাঝির বউ সোনামুখী ঝগড়া বাধায় সিলভীর সঙ্গে কিংবা কোনো কুকুর যদি খরগোশকে তাড়া করে তাতেও কপিলদাস নড়বে না বা কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগ্রহ পোষণ করবে না। কারণ তার কাছে সবই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়। বৃদ্ধ বয়সে এসে জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে তার মনে হয়, দুনিয়ায় কোনোকিছু আলাদা নয়, সবকিছু এরকমই হয়ে আসছে।

১১. কপিলদাস মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল কেন?

উত্তর: বালক বয়সের দুরন্তপনার জন্য, কপিলদাস মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল।
মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা দিয়েছিল মজা করে। বর্ষায় টাঙনের পানি ছিল ভরপুর। পাদ্রি সেখানে তলিয়ে গেলেন। পরক্ষণেই তিনি ভেসে উঠেছেন। উঠেই গালাগালি দিলেন। সাঁতরে আসার সময় শাসাচ্ছিলেন তোর বাপকে বলব, বিচার দিব। মূলত, দুষ্টুমি আর মজা করার জন্যই মানুয়েল পাদ্রিকে পানিতে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল।

১২. ‘তোর দিদি কিরকম নিখুঁত নিশানায় গিয়ে বিঁধত’উক্তিটি কার এবং এর ধারা কি বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: কপিলদাস কৈশোরের স্মৃতিচারণা করতে করতে নিজেই নিজেকে এ কথা রলেন।

বালক বয়সে কপিলদাসের তিরের নিশানা ছিল অব্যর্থ। কপিলদাস সাঁওতাল সন্তান। সাঁওতালরা তির-ধনুক নিক্ষেপে অভিজ্ঞ। শৈশব থেকে তাদের শিকারে যেতে হয় তির-ধনুক নিয়ে। তারা প্রকৃতির মায়ে বেড়ে ওঠে। শিকার করা শেখে। তির-ধনুক নিয়ে শিকার করতে করতে তারা শৈশব থেকেই তির-ধনুক চালনায় দক্ষ হয়ে ওঠে।

১৩. কপিলদাস তার কালো রঙের কুকুরের কথা মনে পড়লে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে কেন?
উত্তর: কপিলদাসের দুরন্ত কিশোরকালের সংঙ্গী ছিল একটি কালে রঙের কুকুর, তাই তার কথা মনে পড়লে সে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ে। কিশোর বয়সে কপিলদাস শিকার করত। আর তাকে সঙ্গ দিত তার কুকুর। একদিন কপিলদাস একটি প্রাণী শিকার করলে কুকুরটি শিকারের পিছনে ছুটে যায়। তাই যখনই শিকারের কথা মনে পড়ে তখনই তার মনে আসে সেই কালো রঙের কুকুরের কথা। যার সাথে তার অনেক স্মৃতি জড়িত। কিন্তু কুকুরটিকে বাঘে খেয়ে ফেলে। তাই কুকুরের কথা মনে পড়লে সে অন্যমনস্ক হয়ে যায়।

https://www.effectivegatecpm.com/aguyc6dg?key=b190c856ced1befdaa1f3fd3921dcd43

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

Stay Connected

16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe

Must Read

- Advertisement -spot_img

Related News

- Advertisement -spot_img